Read Your Solution Of IT

You can learn Graphics right HERE

ad

Hot

Post Top Ad

Saturday, October 22, 2016

Tuesday, October 18, 2016

Wednesday, October 12, 2016

Tuesday, August 30, 2016

ফটো দেখুন

মানবহত্যা ও সন্ত্রাসবাদ ইসলামের পথ নয়

1:28 AM 0

মানবহত্যা ও সন্ত্রাসবাদ ইসলামের পথ নয়

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
অলংকরণ: তুলিইসলামের মূল কথা হলো তওহিদ বা একত্ববাদ; এর বিপরীত হলো শিরক বা অংশীবাদ, যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। শিরকের পরই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ হলো মানবহত্যা। এটি বান্দার হক হওয়ায় আল্লাহ মানবহত্যাকারীকে ক্ষমা করবেন না।
আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র কাবিল প্রথম আপন বড় ভাই হজরত হাবিল (রা.)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করেন। প্রসঙ্গটি কোরআন মজিদে এভাবে এসেছে—‘আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও। যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কবুল হলো না। সে বলল, “আমি তোমাকে হত্যা করবই”। অপরজন বলল, “অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন। আমাকে হত্যা করার জন্য তুমি হাত তুললেও তোমাকে হত্যা করার জন্য আমি হাত তুলব না; আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। তুমি আমার ও তোমার পাপের ভার বহন করো এবং অগ্নিবাসী হও ইহাই আমি চাই এবং ইহা জালিমদের কর্মফল।” অতঃপর তার চিত্ত ভ্রাতৃহত্যায় তাকে উত্তেজিত করল। ফলে সে তাকে হত্যা করল; তাই সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত: ২৭-৩১)।
মানবহত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ কারণেই বনি ইসরাইলের প্রতি এই বিধান দিলাম যে কারণ ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল, আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। তাদের কাছে তো আমার রাসুলগণ স্পষ্ট প্রমাণ এনেছিলেন, কিন্তু এরপরও তাদের অনেকে দুনিয়ায় সীমা লঙ্ঘনকারীই রয়ে গেল।’
ইসলামের শিক্ষা হলো: সব মানুষ এক আল্লাহর বান্দা; যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর অনুগত বান্দা। সব মানুষ একই বাবা-মায়ের সন্তান; সব মানুষ একই রক্তে-মাংসে গড়া; তাই সাদা-কালোতে কোনো প্রভেদ নেই। সব মানুষ আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত। কলেমা পড়া মুসলমান সবাই সমান; কবরে ও হাশরে সবাইকে একই প্রশ্ন করা হবে।
ইসলামে মানবহত্যার পরকালীন বিধান
মানবহত্যার পরকালীন বিধান সম্বন্ধে কোরআনে বলা হয়েছে: ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মোমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৯৩)। আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে: ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা করবে না।’ (সুরা-৬ আনআম, আয়াত: ১৫১)। ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা কোরো না! কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে তো আমি উহা প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি; কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে; সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে।’ (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৩)।
ইসলামি শরিয়তের প্রধান উদ্দেশ্য ও
ইসলামের শিক্ষা
ইসলামি শরিয়তের প্রধান উদ্দেশ্য হলো: জীবন রক্ষা, সম্পদ রক্ষা, সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা, জ্ঞান রক্ষা, বংশ রক্ষা ও ধর্ম রক্ষা। এখানে প্রণিধানযোগ্য যে, শরিয়তের মূল পাঁচটি লক্ষ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো জীবন রক্ষা। আজকাল অনেকেই সামান্য খুঁটিনাটি কারণে সন্ত্রাস, হত্যা, গুপ্তহত্যাসহ খুনখারাবি করতে দ্বিধাবোধ করে না। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়; ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কেউ যদি এমন কোনো অপরাধও করেন, যাতে তার প্রাণ নিধনের বিধান আছে; তবে তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক বাস্তবায়ন করা ইসলামসম্মত নয়; বরং তা যথাযথ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কেবল বাস্তবায়নের এখতিয়ার রাখে। কারণ, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত বিধিবিধান যা অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, অর্থাৎ ব্যক্তির একান্ত নিজের নয়; তথা সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তা কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায় কর্তৃক নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করা শরিয়তসিদ্ধ নয়; এটি কেবল আদালত ও সরকারের দায়িত্ব।
ইসলাম ন্যায়পরায়নতা, সুবিচার ও সুন্দর আচরণ করার শিক্ষা দেয়। ইসলাম বিশ্বব্যাপী মানবভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যুদ্ধ সংঘটনের কারণ দূর করতে চায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানবভ্রাতৃত্বের নীতিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হলে যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যায়। মানবভ্রাতৃত্বের পাশাপাশি ইসলাম বিশ্বাসের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। হিজরতের সময় পথ দেখানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কার মুশরিক আবদুল্লাহ ইবনে আরিকতের সাহায্য নিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের সাহায্যও নিয়েছেন, ছওয়ান ইবনে উমাইয়া মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী ও সমর্থক হয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) পরম শত্রুর সঙ্গেও ভালো আচরণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি অমুসলিমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। তিনি তাদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন এবং শ্রমের বিনিময়ও করেছেন। পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা ইসলামসমর্থিত নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু নিপাতের চেষ্টা করে। আর আল্লাহ অশান্তি পছন্দ করেন না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২০৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তোমরা তাতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না, তাঁকে ভয় ও আশার সহিত ডাকবে। নিশ্চয় আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৫৬)। ইমাম ইবনে কাসির (রা.) বলেন, যেসব কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তা করতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন। কোরআন করিমে রয়েছে, ‘পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি কোরো না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১১)।
ইসলাম সর্বোচ্চ নৈতিকতা, উন্নত মূল্যবোধ, চরম ধৈর্য ও পরম সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ইসলাম অতর্কিতভাবে কারও ওপর আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয় না।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com


https://web.facebook.com/yousuf7181/ 
Read More

খুতবার সুন্নত ও প্রাসঙ্গিক কথা

1:26 AM 0

খুতবার সুন্নত ও প্রাসঙ্গিক কথা

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
.খুতবা কী ও কেন?
খুতবা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো ভাষণ: বক্তৃতা, প্রস্তাবনা, ঘোষণা, সম্বোধন, উপস্থাপনা ইত্যাদি। খুতবা হলো জুমার নামাজের আগে, উভয় ঈদের নামাজের পরে, হজে আরাফার দিনে মসজিদে নামিরাতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ও বিভিন্ন ইসলামি অনুষ্ঠানে খলিফার প্রতিনিধি, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা ইমাম ও খতিব কর্তৃক প্রদত্ত প্রাসঙ্গিক বক্তৃতা বা ভাষণ। যিনি খুতবা দেন তাঁকে ‘খতিব’ বলা হয়। সাধারণত যেসব মসজিদে আলাদা খতিব নেই, সেখানে পেশ-ইমাম বা প্রধান ইমাম অথবা ইমাম ও সানি ইমাম (সহকারী ইমাম) খুতবা প্রদান করেন এবং জুমার ও ঈদের নামাজে নেতৃত্ব দেন। জুমার খুতবা নামাজের আগে এবং ঈদের নামাজসহ অন্যান্য নামাজে খুতবা পরে দেওয়া হয়। ঈদ ও জুমার খুতবা ওয়াজিব, অন্যান্য খুতবা সুন্নত।
খুতবার মধ্যে যেসব বিষয় থাকা সুন্নত
হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) দ্বারা শুরু করা, ছানাখানি (গুণগান) করা, শাহাদাতাঈন (তওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য) পাঠ করা, দরুদ শরিফ পড়া, কোরআনে করিমের প্রাসঙ্গিক আয়াত তিলাওয়াত করা, সংশ্লিষ্ট হাদিস পাঠ করা, প্রয়োজনীয় মাসআলা বর্ণনা করা, ওয়াজ-নসিহত বয়ান করা, উপদেশ দেওয়া, সৎকর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও মন্দ কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করা, মুসলমানদের জন্য দোয়া করা।            
খতিবের করণীয় সুন্নত
অজু অবস্থায় থাকা (পবিত্র থাকা)। জুমার খুতবার প্রারম্ভে (মিম্বারে) বসা। সব খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়া। জুমার খুতবা মিম্বারে দাঁড়িয়ে দেওয়া। মুসল্লিদের (শ্রোতা-দর্শকদের) দিকে ফিরে খুতবা দেওয়া। খুতবা আরম্ভের আগে মনে মনে ‘আউজুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া। খুতবা আরবি ভাষায় হওয়া। সশব্দে (শ্রোতা-দর্শক শুনতে পায় এমনভাবে) খুতবা পরিবেশন করা। উভয় খুতবা সংক্ষিপ্ত হওয়া। উভয় খুতবা (প্রতিটি) ‘তিওয়ালে মুফাছ্ছল’ (সুরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত) সুরার চেয়ে দীর্ঘ না হওয়া। দুই খুতবার মাঝে বসা। ঈদের খুতবায় প্রারম্ভে না বসা। ঈদের প্রথম খুতবার শুরুতে ৯ বার; ঈদের দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে ৭ বার এবং শেষে ১৪ বার তাকবির বলা।
খুতবায় যা যা থাকা উচিত
পূর্বসূত্র (বিগত আলোচনার সারাংশ ও আজকের বিষয়ের সঙ্গে পূর্বাপর সম্পর্ক)। আজকের বিষয়: প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা। গত সপ্তাহের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যালোচনা। আগামী সপ্তাহের করণীয় আমল আলোচনা। (চাঁদের মাসের আমল)। সমকালীন প্রসঙ্গ ও দিকনির্দেশনা। মধ্যপন্থা অবলম্বন। ঐক্যের প্রচেষ্টা ও অনৈক্য দূর করা।
মিম্বার প্রসঙ্গ
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমত একটি খেজুরগাছের খুঁটির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। মিম্বার তৈরি হওয়ার পর তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। ওই মিম্বারে তিনটি তাক ছিল। নবীজি (সা.) তৃতীয় তাকে দাঁড়াতেন ও বসতেন। নবীজি (সা.)-এর ওফাতের পর হজরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি দ্বিতীয় তাকে দাঁড়াতেন। হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি তৃতীয় তাকে দাঁড়াতেন। অতঃপর হজরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি দ্বিতীয় তাকে দাঁড়াতেন এবং এ প্রথাই বর্তমানে প্রচলিত। তবে প্রয়োজনে মিম্বারের তাকের সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে এবং সুবিধানুযায়ী খতিব যেকোনো তাকে দাঁড়াতে পারেন।             
খতিবের ‘আসা’ বা যষ্টি প্রসঙ্গ
রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) সাধারণত তৎকালীন সামাজিক পরিবেশের প্রয়োজনে ‘আসা’ বা যষ্টি বহন করতেন। চলাফেরার সুবিধার জন্য অনেকে এখনো তা সহায়করূপে ব্যবহার করেন। আসলে যষ্টি বা লাঠি একটি প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক বস্তু। যাঁরা এটি ব্যবহার করেন, তাঁরা দাঁড়ালে সাধারণত তা হাতেই রাখেন এবং বিভিন্নভাবে এর ওপর হেলান, ঠেস বা ভর দিয়ে থাকেন। পবিত্র কোরআনে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর লাঠির বিবরণ বিবৃত হয়েছে এবং হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠির কথা আলোচিত হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)ও যেহেতু লাঠি ব্যবহার করেছেন, তাই অনেকে খুতবা দেওয়ার সময় হাতে যষ্টি ধারণ সুন্নত ও উত্তম মনে করেন। আবার অনেক ফকিহর মতে, এটি জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ; তাই শুধু খুতবার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট নয়
খতিবের কতিপয় গুণাবলি
মোত্তাকি (তাকওয়া), মুখলিস (ইখলাস), আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল (তাওয়াক্কুল), বিজ্ঞ আলেম, ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু, কপটতামুক্ত, সরলমনা, বিনয়ী, সুমিষ্টভাষী, ভদ্র। এ ছাড়া খতিবের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, অবয়ব (সুরত), আখলাক (সিরত), পোশাক-আশাক ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ।
খতিবের করণীয়
বয়ানের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ অপরিহার্য। শ্রোতার মনোযোগের প্রতি লক্ষ রাখা। সুন্দরভাবে সূচনা করা। দর্শক-শ্রোতার বিরক্তি উদ্রেক করে এমন আলোচনা পরিহার করা। দর্শক-শ্রোতার ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধি বিবেচনা করে কথা বলা। সমস্যা নির্ণয় করে সে অনুযায়ী সমাধানের পথ দেখানো। বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে ক্রমানুসারে উপস্থাপন করা। কোনো বিষয়ে সরাসরি কাউকে আক্রমণ বা ইঙ্গিত করে না বলা। দোষের বিষয়গুলো নিজেকে দিয়ে উদাহরণ দেওয়া। সঠিক বক্তব্য প্রদান করা। পরিণতি চিন্তা করে কথা বলা। সব বিষয়ে মতামত না দেওয়া। তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করা। জানার সবটুকু না বলে শুধু প্রয়োজনীয় কথাটুকু বলা। হেকমতের সঙ্গে কথা বলা। সম্বোধনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা। অতি দ্রুত তালে বা অতি ধীর লয়ে কথা না বলা। গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো প্রয়োজনে দুবার, তিনবার করে বলা। মনে রাখতে হবে, এতে যেন শ্রোতার ধৈর্যচ্যুতি না ঘটে। আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে বয়ানের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা আনয়ন করা। আকর্ষণীয় সহিহ কাহিনি দ্বারা শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখা। শায়ের-আশআর, কবিতা ও প্রবাদবাক্য দ্বারা শ্রীবৃদ্ধি করা। উদাহরণ দিয়ে বিষয়কে বোধগম্য করা। উদ্ধৃতি যেন নির্ভুল হয় তা লক্ষ রাখা। শব্দ, বাক্য ও উচ্চারণ যেন শুদ্ধ হয় তা খেয়াল রাখা। নিজের কথায় ও কাজে যেন মিল থাকে সেদিকে যত্নবান থাকা। ইতিবাচক কথা ও আশার বাণী শোনানো। সুন্দরভাবে শেষ করা।
আলোচনার বিন্যাস যেমন হতে পারে
আমলি কথা, ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত বিষয়াবলি, প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক মাসআলা, নবী-কাহিনি, আউলিয়া-কাহিনি, একটি ফরজ আমল, একটি হারাম কাজ, একটি কবিরা গুনাহ, একটি আরবি (সুরা ও দোয়ার) শব্দার্থ, একটি আয়াত বা ছোট সুরা মাশক, প্রশ্নোত্তর (সম্ভব হলে)।
খুতবায় যা যা থাকা উচিত নয়
দলীয় রাজনৈতিক আলোচনা। বিতর্কিত মাসআলা মাসায়িল। অপ্রয়োজনীয় অভিনব বিষয়। মুসল্লিদের মধ্যে অনৈক্য, বিভেদ ও ভুল–বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো বিষয়।         
খুতবার বিষয় নির্ধারণ
খুতবা হলো ব্যবহারিক নির্দেশনা। তাই এর সঙ্গে সভ্যতা সংস্কৃতি, ঋতুবৈচিত্র্য ও আবহাওয়া বা জলবায়ু এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রতিফলন থাকবে। একজন সচেতন প্রজ্ঞাবান আলেম ও খতিব তাঁর মেধা ও মননশীলতা প্রয়োগ করে খুতবার বিষয় নির্ধারণ করবেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের বিষয় আলোচনায় থাকবে; থাকবে এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কোরআন ও হাদিসের আলোকে; থাকবে এর থেকে পরিত্রাণের দিকনির্দেশনা।             
খুতবার বিভিন্নতা ও অভিন্নতা
খুতবার স্থানীয় বিষয়গুলো বিভিন্ন হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো হবে প্রায় অভিন্ন। খুতবার বিষয় নির্ধারণ ও শব্দচয়ন দায়িত্বশীল খতিবের নিজস্ব এখতিয়ার। তবে কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা বা বিজ্ঞজনের কল্যাণমূলক সুপরামর্শ বা সদুপদেশ গ্রহণ করাতে কোনো দোষ নেই।     
খুতবা-বিষয়ক কেন্দ্রীয় করণীয়
খুতবা একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সঙ্গে দেশ, জাতি ও জনগণের বিষয়াবলির সম্পর্ক সুনিবিড়। কিন্তু সব খতিব সব বিষয়ে সমানভাবে পারদর্শী নন এবং সমকালীন গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয় নির্বাচন ও উপস্থাপন সবার পক্ষে সম্ভবও নয়। তাই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রাক্-‘খুতবা বয়ান’ আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়মিত প্রতি বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। প্রতি বুধবার এই খুতবা নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রকাশনা বের করা যায় এবং খুতবার এসব বিষয় তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খতিবদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যায়। এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে সব মানুষ খুতবা দ্বারা সমভাবে উপকৃত হতে পারবে।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি। সহকারী অধ্যাপক, আহ্‌ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।

Read More

হজ ও ওমরাহ পরিচিতি ও বিধান

1:23 AM 0

হজ ও ওমরাহ পরিচিতি ও বিধান

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

হজ
হজ আরবি শব্দ। হজের আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা এবং সফর বা ভ্রমণ করা। ইসলামি পরিভাষায় হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কর্ম সম্পাদন করা। হজের নির্দিষ্ট সময় হলো আশহুরে হুরুম বা হারাম মাসসমূহ তথা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ; বিশেষত ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। হজের নির্ধারিত স্থান হলো মক্কা শরিফে কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা ইত্যাদি এবং মদিনা শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা। হজের বিশেষ আমল বা কর্মকাল হলো ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, অকুফে আরাফাহ, অকুফে মুজদালিফা, অকুফে মিনা, দম, কোরবানি, হলক, কছর, জিয়ারতে মদিনা—রওজাতুল রাসুল ইত্যাদি।
পবিত্র হজ আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ বিধান। হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ। হজ সম্পর্কে কোরআন শরিফে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর তরফ থেকে সেই সব মানুষের জন্য হজ ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে।’ (সুরা আলে ইমরান; আয়াত: ৯৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত হজের পুরস্কার বেহেশত ব্যতীত অন্য কিছুই হতে পারে না। সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যাঁরা হজ পালন করবেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের হজ কবুল করবেন এবং তাঁদের জন্য অফুরন্ত রহমত ও বরকত অবধারিত।
নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হজ মানুষকে নিষ্পাপে পরিণত করে, যেভাবে লোহার ওপর থেকে মরিচা দূর করা হয়।’ (তিরমিজি)। যে ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে অথচ তিনি হজ আদায় করেন না, তাঁর জন্য রয়েছে বিশেষ সাবধান বাণী। হজ মানুষকে নিষ্পাপ করে দেয়। রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি যথাযথভাবে হজ পালন করে, সে পূর্বেকার পাপ থেকে এ রকম নিষ্পাপ হয়ে যায়, যে রকম সে মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন নিষ্পাপ ছিল।’ (বুখারি)।
জীবনে একবার হজ করা ফরজ। সামর্থ্যবানদের জন্য প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হজ করা সুন্নত। সুযোগ থাকলে বারবার বা প্রতিবছর হজ করাতে বাধা নেই। যেকোনো অর্থ দ্বারা হজ সম্পাদন করা যাবে। হাদিয়া বা অনুদানের টাকা দিয়েও হজ করলে তা আদায় হবে। চাকরি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল হিসেবে কর্তব্য কাজের সুবাদে হজ করলেও হজ আদায় হবে। এটি বদলি হজ না হলে নিজের ফরজ হজ আদায় হবে; ফরজ হজ আগে আদায় করে থাকলে এটি নফল হবে। নফল হজ অন্য কোনো ব্যক্তির বদলি হজের নিয়তে আদায় করলে তা–ও হবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি)।
বদলি হজ
হজ সম্পাদনে নিজে শারীরিকভাবে অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে বদলি হজ করানো যায়। বদলি হজে যিনি হজ সম্পাদন করেন, যিনি অর্থায়ন করেন এবং যাঁর জন্য হজ করা হয়—সবাই পূর্ণ হজের সওয়াব লাভ করেন। যাঁরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ আদায় করতে পারেননি, তাঁদের কর্তব্য হলো বদলি হজ করানোর জন্য অসিয়ত করে যাওয়া। অসিয়তকৃত বদলি হজ অসিয়তকারীর সম্পদ বণ্টনের আগে প্রতিপালন করা বা সম্পাদন করানো ওয়ারিশদের জন্য ওয়াজিব। অসিয়ত না করে গেলেও কোনো ওয়ারিশ বা কেউ নিজ উদ্যোগে বা ব্যক্তিগতভাবে তা আদায় করতে বা করাতে পারবেন। এতেও মৃত ব্যক্তি দায়মুক্ত হবেন এবং বদলি হজ করনেওয়ালা ও করানেওয়ালা উভয়ে সওয়াবের অধিকারী হবেন।
জীবিত বা মৃত যেকোনো ব্যক্তিরও বদলি হজ করানো যায়। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব অথবা পরিচিত-অপরিচিত যে কেউ যেকোনো ব্যক্তির বদলি হজ করতে বা করাতে পারেন। বদলি হজ আদায় করতে বা করাতে যাঁর জন্য বদলি হজ করা হবে বা করানো হবে, তাঁর অনুমতি বা অবগতির প্রয়োজন নেই; তবে সম্ভবপর হলে তা উত্তম। বদলি হজ সম্পাদনের জন্য আগে নিজের হজ আদায় করা শর্ত নয়; বরং নতুনদের দ্বারা বদলি হজ করালে তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, আবেগ ও অনুরাগ বেশি থাকে। তবে যাঁর নিজের হজ অনাদায়ি রয়েছে, তিনি বদলি হজ করতে পারবেন না। বদলি হজ আত্মীয়-অনাত্মীয়, নারী-পুরুষ যে কেউ করতে পারেন। তবে বিজ্ঞ পরহেজগার লোক হলে উত্তম।
ওমরাহ
ওমরাহ আরবি শব্দ। ওমরাহর আভিধানিক অর্থ হলো ধর্ম, কর্ম, ইবাদত, সুখকর, সেবা, স্থিতিশীল, জীবন, মহাপ্রাচীন, স্থাপত্য-স্থাপনা, প্রাপ্তি, অভ্যর্থনা, জিয়ারত বা সফর ও ইচ্ছা। যিনি ওমরাহ করেন, তাঁকে ‘মুতামির’ বলা হয়। (লিসানুল আরব)। ইসলামি পরিভাষায় ওমরাহ হলো নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদন করা। ওমরাহর নির্দিষ্ট কাজকর্ম হলো ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, হলক, কছর ইত্যাদি। ওমরাহর নির্ধারিত স্থান হলো কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া ইত্যাদি। আফাকি তথা দূরবর্তী ওমরাহ সম্পাদনকারীর জন্য মদিনা মুনাওয়ারায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা সুন্নত। ওমরাহ সম্পাদনের বিশেষ কোনো সময় সুনির্দিষ্ট নেই; তবে হজের নির্ধারিত বিশেষ সময়ে (৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন) ওমরাহ পালন করা বিধেয় নয়; এই পাঁচ দিন ছাড়া বছরের যেকোনো দিন যেকোনো সময় ওমরাহ প্রতিপালন করা যায়। হজের সফরেও ওমরাহ করা যায়। একই সফরে একাধিক ওমরাহ করতেও বাধা নেই। হজের আগেও (হজ না করেও) ওমরাহ করা যায় এবং হজের পরও বারবার ওমরাহ করা যায়। হজ যেমন জীবনে একবার ফরজ, তেমনি ওমরাহ জীবনে অন্তত একবার সুন্নত।
রমজানে ওমরাহ পালন করা হজের সমান সওয়াব; শাওয়াল মাসও ওমরাহ করার জন্য উত্তম সময়। তবে হজ ফরজ থাকা অবস্থায় তা আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হজ সম্পন্ন না করে বারবার ওমরাহ করা অযৌক্তিক। কারণ, শত-সহস্র ওমরাহও হজের সমকক্ষ হবে না। অনুরূপভাবে ওমরাহ আদায় করলে হজ ফরজ হয়ে যায়, এমনটিও সঠিক নয়।
ওমরাহর জন্যও হজের মতোই মিকাত থেকে ইহরাম করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে আমাদের মিকাত হলো ইয়ালামলাম পাহাড়, যা জেদ্দার পূর্বে অবস্থিত। মদিনা থেকে মিকাত হলো জুলহুলায়ফা নামক স্থান। মক্কা থেকে ওমরাহ করতে চাইলে তার মিকাত হলো তানয়িম বা আয়িশা মসজিদ অথবা জিরানা নামক জায়গা। (মক্কা থেকে হজের ইহরামের জন্য মিকাত প্রযোজ্য নয়)। ওমরাহকে ‘ওমরাহ হজ’ বা ছোট হজও বলা হয়।
ওমরাহ সম্পর্কে কোরআন করিমে রয়েছে: ‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম; তাই যারা হজ করবে বা ওমরাহ করবে, তারা এতদুভয়ের প্রদক্ষিণ (সায়ী) করবে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৮)। ওমরাহ পালন করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। এটি পুরুষ ও মহিলা সবার জন্য প্রযোজ্য। ওমরাহ করলে হজ ফরজ হয়ে যায়, এ রকম কোনো বিধান নেই। মক্কা-মদিনার প্রতি আকর্ষণ ও হৃদয়ের টান ইমানের পরিচায়ক। তাই অনেকে প্রেমের টানে বারবার হজ ও ওমরাহ করে থাকেন।
ওমরাহ নিজের জন্য যেমন করা যায়, তেমনি অন্যদের জন্যও করা যায়। জীবিত বা মৃত, ছোট বা বড়, আত্মীয় বা অনাত্মীয় যেকোনো ব্যক্তির জন্যও ওমরাহ আদায় করা যায়। যার জন্য ওমরাহ পালন করা হবে, তাকে আগে বা পরে জানানো বা অনুমতি নেওয়া শর্ত নয়; তবে তা জানানো উত্তম। ওমরাহ যেহেতু ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তাই এর বদলি আদায় করা জরুরি নয়। তবে কাউকে যদি কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি অসিয়ত করে যান, তা আদায় করা ওয়াজিব হবে। এ ছাড়া কেউ কারও দ্বারা ওমরাহ করালে উভয়ে সমান সওয়াব পাবেন; কেউ কারও জন্য ওমরাহ সম্পাদন করলেও উভয়েই পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবেন। (ফাতাওয়া শামি)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com

https://web.facebook.com/yousuf7181/ 
Read More

Post Top Ad